Showing posts with label সমকালীন চিন্তাভাবনা. Show all posts
Showing posts with label সমকালীন চিন্তাভাবনা. Show all posts

Wednesday, September 25, 2019

বাস্তব বুদ্ধি দিয়ে জীবনসঙ্গী বাছুন

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু 


বৈবাহিক জীবনে অযাচিত সমস্যা এড়াতে সঠিক জীবন সঙ্গীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হয় অনেক ভেবে চিন্তে। কিছু ভালো মূহুর্তকে সঙ্গী করে বিবেচনা ছাড়া বিবাহ বন্ধনে না জড়ানোই ভালো। জীবনের ভবিষ্যত বিচার করে এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কগুলোকে আমাদের একটু সতর্কতার সাথে দেখতে হবে।

সঠিক জীবনসঙ্গী বাছার ক্ষেত্রে আমাদের জীবনে কিছু মানদন্ড রাখতে হবে, নাহলে আমরা আবেগের বশে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে নেব। যার ফল ভোগ করতে হবে আমাদের বাকি জীবন ধরে।

বাস্তব পথ অবলম্বন করে জীবনসঙ্গী বাছুন

আমাদের জীবনে ছোটো ছোটো অনেক মূহুর্তকে বেশি রকম প্রাধান্য দিয়ে আমরা বড়ো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিই। জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমাদের ভাবনাগুলো আরও পরিণত করতে হবে। অনেকে ভাবে বিবাহের পর সে ঠিক করে ফেলবে সবটা, কিন্তু এই ভাবনাতে সে বেশিরভাগ সময় ভুল প্রমাণিত হয়। আমরা পরিবর্তন করতে চাইলেও বিপরীতে থাকা মানুষটা যদি পরিবর্তন না চায় তবে সমস্যা সৃষ্টি হবে। তাই খাদ্যাভাস , ধর্ম বা ব্যাক্তিগত আরো কিছু ভালোলাগার বিষয়ে নূন্যতম একটা ভারসাম্য রাখা দরকার জীবনসঙ্গী বাছার ক্ষেত্রে। হয়তো একজন খুব সংস্কৃতিমনস্ক কিন্তু আর একজন এটাকে যথেষ্ট সম্মান পর্যন্ত করে না সেক্ষেত্রে এমন ভাববেন না যে বিবাহের পর ঠিক করে ফেলবেন সঙ্গীর স্বভাব-চরিত্র বা ব্যক্তিত্ব। এই সমস্ত বিষয় নিয়ে উল্টে ঝামেলা বাড়বে।



Saturday, July 13, 2019

পর্যবেক্ষণ - ৯ | পরশ্রীকাতরতা


  بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

              শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়অতি দয়ালু 


একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম, এদেশের উচ্চশিক্ষিতরা নিজ নিজ অবস্থানে কেউই সন্তুষ্ট নয়। আমার অবজারবেশনের স্যাম্পল সাইজ অল্প কিন্তু কম বেশি সব প্রফেশনের সাথেই কথা হয়েছে। মানুষের স্বাভাবিক প্রকৃতি হল চাহিদা অসীম। আপনার চোখে আমি সফল হলেও আমার চোখে আমি মোটেও সফল না; এক্ষেত্রে দেখা যায় আরেকজনকে ফ্রেম অফ রেফারেন্স ধরে নিজের জীবনকে তুলনা করছি। ফলে দেখা যায়, নিজ অবস্থানে অনেক ভালো থাকার পরেও মানসিক শান্তিলাভ করতে পারেন না অনেকেই। হতাশ থাকেন। 

'বন্ধু গাড়ি-বাড়ি করে ফেলেছে, বউ-বাচ্চা নিয়ে ঘুরছে আর আমি কিনা এখনো ক্যারিয়ার সেট দূরে থাক বিয়েই করতে পারলাম না' এভাবে না ভেবে যদি এমন ভাবি 'আমি আল্লাহর রহমতে ছোট খাট পজিশনে জব করতে পারলেও আমার অনেক বন্ধুই এখনো রাস্তায় রাস্তায় জুতোর তলা ক্ষয় করছে' তাহলে আমার মনে হয় হতাশা কমবে।

Thursday, January 4, 2018

উপলব্ধি - ১২


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম


অনেকদিন ধরে ব্লগে লেখা হয়না। আশা আছে এই বছর হতে আবার নিয়মিত লিখা লেখা শুরু করব। ইন শা আল্লাহ। আজ জীবন হতে নেয়া কিছু উপলব্ধি পাঠকদের সামনে তুলে ধরলাম।   


১) আল্লাহ একেকজনকে একেক অবস্থায় রেখে পরীক্ষা নেন। চারপাশ থেকে কষ্ট পেয়ে আপনি যখন ভাবছেন কষ্টে আছেন তখন আপনার থেকেও দেখবেন অনেকে কষ্টে আছে। এটা ভেবেও শুকরিয়া করা দরকার যে আল্লাহ আপনাকে অনেক ভালো রেখেছে। 

২) আমরা মাঝেমাঝে ধৈর্যহারা হয়ে যাই। আমরা বুঝতে চেষ্টা করি না আমাদের কাছের মানুষটা কেমন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আমরা হুটহাট তাদের বিচার করে বসি। কষ্ট দিই। 

৩) একজন ভাই বলল, তার সাথের বন্ধুরা যারা অধিকাংশই অতীতে পাপে লিপ্ত ছিল আজ তাঁরা প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু তিনি ভালো হয়েও কষ্টে আছেন। এ কেমন বিচার! আমি বলি, খেলা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। ধৈর্যধারণ করুন, কে কী বলল আমলে নিবেন না; একদিন, একদিন আপনি ভালো করবেনই।

Saturday, April 23, 2016

পর্যবেক্ষণ - ৮ | পর্ণ আসক্তি ও আমাদের যুবসমাজ

 بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

              শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়অতি দয়ালু 


প্রথমেই বলে নিই এটা একটি কাল্পনিক গল্প। কিন্তু এসব বাস্তবেও ঘটছে প্রতিনিয়ত। আশা করি

নতুন কিছু শিখব আমরা 


ধরুন, আজ আপনার বাসা পুরোই ফাঁকা। কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না! নাহ, আপনার কোন

বান্ধবীও নেই। আর লোকে কি বলবে এটা ভেবে বন্ধু-বান্ধবদের ফাঁকা বাসায় আনতে চাইছেন না।

ভার্সিটির এক ফ্রেন্ড; সে ক্লাসেই লেকচার ফাঁকি দিয়ে মোবাইলে ১৮+ জিনিসপত্র দেখে। ছেলে-

মেয়ে অনেকেই এটাকে নরমালভাবে দেখে। আপনিও আজকাল উৎসাহী হয়ে উঠেছেন। সে বন্ধুটি

আপনার সাথে সাময়িক উত্তেজনার মাধ্যমের কথা শেয়ার করেছে; সাথে সাথে বলেছে এটাতে

কোন রিস্ক নাই। আপনার কৌতূহল দমাতে ১৬ জিবি পেনড্রাইভে সে হাই রেজ্যুলেশানের ভিডিও

আপলোড করে দিল। 


আপনি বাসায় এলেন। আগেই বলেছি, আজ পুরো বাসা ফাঁকা। ভেবে পাচ্ছেন না কি করবেন।

ঠিক তখনই মনে এল পেনড্রাইভের কথা। ল্যাপটপে বসে দেখা শুরু করলেন সেইসব জিনিসপত্র।

একসময় প্রবল উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে .......... 

                                           


Wednesday, June 17, 2015

পর্যবেক্ষণ - ৭


 بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

                        শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়অতি দয়ালু 


একটি জগত আরেকটি জগত সম্পর্কে কিছুই জানে না। আমি খুব সৌভাগ্যবান যে, আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা’আলা আমাকে দুইটি জগতকে পাশাপাশি-কাছাকাছি দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ্‌ J

ক্লিয়ার করি একটু!



আমাদের জেনারেশনের একটা পার্ট তাদের ধর্ম সম্পর্কে কিছুই জানে না বলতে গেলে। বাপ-দাদা হতে প্রাপ্ত রেডিমেইড ইসলাম সম্পর্কে তাদের জ্ঞান স্কুলে শেখা ধর্ম বইয়েই সীমাবদ্ধ। কুর’আন পড়ে আছে সেলফে ধূলিমলিন অবস্থায়। সহীহ ৬টি হাদিসগ্রন্থের একটাও খুঁজলে তাদের বাসায় খুঁজে পাওয়া যাবে না। ফাইনাল পরীক্ষার পর রেজাল্ট দিবার আগে, কেউ মারা গেলে, নতুন বাসায় উঠলেই কেবল কুর’আনটা ধরা হয় তাদের। আর হাদিস! অনেকেই জানে ‘স্বদেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ’ ‘বিদ্যাঅর্জনের জন্য চীন দেশে হলেও যাও’ এইরকম বহু আল-হাদিসের মোড়কে জালহাদিস। কুর’আনের আয়াত ও হাদিস অনেকেই জানে এই ফেইসবুক থেকে। ধরুন আমি একটা আয়াত পোস্ট দিলাম। অনেকে সেটা দেখে শত শত লাইক দিয়ে গেল। কিন্তু কেউই একটু উদ্যোগী হয়ে কুর’আন খুলে দেখে নিল না, পড়ে নিল না আয়াতটা। আর এভাবেই ‘রেডিও মুন্না’ টাইপ আজাইরা পেইজগুলোর প্রসার পাচ্ছে আমাদের জেনারেশনের মাঝে। তারা ভুলভাল হাদিস তুলে দিচ্ছে। মার্ক টোয়াইনের উক্তি আলী (রাঃ)এর বলে চালিয়ে দিচ্ছে আর আমরা দেদারসে শেয়ার দিয়ে বেড়াচ্ছি!! কাবা শরীফের ছবি দিয়ে বলছে কয়টা লাইক! কয়জন আল্লাহ্‌কে ভালবাসে লাইক দাও! টাইপের ফাজলামো দেখলে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। ইসলাম ভালমত না জানা ছেলেমেয়েরা নিজের অজান্তে শিরক করে বসছে ক্ষণে ক্ষণে। কথাবার্তায় সাবধান হচ্ছে না। অনেক কিছুই দেখছি; সব বলা হয়ে উঠে না।

                                              




আরেকটা পার্টের ছেলেমেয়েরা অনেক এগিয়ে গিয়েছে। তারা কুর’আন নিয়ে পড়ছে, হাদিস পড়ছে, ফিকহি আলোচনা করছে। কিভাবে মানুষকে দ্বীনের পথে আনা যায় তার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। একেকজন সেইরকম মেধাবী ছেলেপেলে, নিজেদের মেধাকে আল্লাহ্‌র পথে ব্যয় করছে। হোক না সে ইঞ্জিনিয়ার অথবা ডাক্তার; তার সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মুসলিম। এজন্য সে ইসলামের পথ নিজের মূল্যবান সময়টুকু ব্যয় করছে। হিকমাহর অভাবে অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে বিতর্কে। উদাহরণস্বরুপ, মাজহাব নিয়ে বিতর্ক। যে ছেলেটা/মেয়েটা ইসলাম নিয়ে কিছু জানে না সে এসব কথা কখনোই বুঝবে না। কারণ সে রেডিমেইড সব কিছু পেয়েছে। আর যার দ্বীনের লাইনে একবার গিয়েছে, মজা পেয়ে গিয়েছে। তারা আরও বেশি বেশি ইলম অর্জনে আত্মনিয়োগ করছে। ঠিক এমনই সময় আরেক জগতে তাদেরই ভাইবোন ইসলাম না জেনে না বুঝে আল্লাহ্‌র কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। মিউজিক শুনছে, দেখার অযোগ্য মুভি দেখছে, লাভ বিফোর ম্যারেজে জড়িয়ে পড়ছে {যেটা ক্লিয়ারলি ইসলামে মানা করা হয়েছে, এবং এটা জিনার সমতুল্য}, বিয়ে না করে লিভ টুগেদার করছে, নেশা করছে। নামাজ পড়ছে শুধু জুমু’আতে। বাকি ৭ দিনের ৩৪ ওয়াক্ত নামাজ যে আছে তা ভুলে গিয়েছে। তাদের অন্তরটা সিলগালা করে দিয়েছে শয়তান, তাদের কানে বিষ ঢেলে দিয়েছে শয়তান। পুরোই অন্ধকারে থাকা এই জেনারেশন চরম হতাশ। তাই কদাচিৎ আত্মহত্যার খবর শুনে বিস্মিত হই না আমি!




ইসলাম সম্পর্কে হিউজপরিমাণে জানলেওয়ালা লোকদের আমি চিনি। তাদের ঈমান অনেক শক্ত। প্রতি নিয়ত এই সমাজে চলাফেরা করতে গিয়ে তাদের অনেক বাজে সিচুয়েশানে পড়তে হয়। অনেক এক্সাম দিতে হয়। সেই অনুযায়ী আমাদের লাইফে কিছুই হয় না, এক্সামও দিতে হয় না। আমাদের এলাকার হুজুর এক খুতবায় বলেছিলেন, যার ঈমান যত শক্ত সে তত কঠিন এক্সামের মধ্যে দিয়ে যায়; আর যার অপেক্ষাকৃত কম, সে কম কঠিন এক্সামের মধ্য দিয়ে যায়। আমাদের দেখলে মনে হয় আমরা লাইফটাকে খুব এঞ্জয় করছি। অনেকেরই পোস্ট দেখি ফেইসবুকে, চেকইন দিয়ে বেড়াচ্ছে মুভি দেখছে, গার্লফ্রেন্ডের সাথে ছবি দিচ্ছে, খুব খারাপ লাগছে সো মিউজিক শুনছে। দেখে মনে হচ্ছে, জীবনে যাই চাচ্ছি তাই পাচ্ছি তাই না? এই দুনিয়ায় কয়দিন থাকব আমরা? জানি কি? ধরেন বড়জোর ৬০ বছর। এর পর? একবার চিন্তা করুন, আদম (আঃ) এর সময়ের মানুষদের কথা। কত বছর তারা মাটির নিচে শুয়ে আছে! আমাকে আপনাকেও শুয়ে থাকতে হবে। এই লাইফে যাই চাচ্ছি তাই যখন পেয়ে যাই তখন খুব ভয় লাগে জানেন? মনে হয় আল্লাহ্‌ বোধহয় আমাকে আখিরাতে কিছুই দিবেন না, যা পাবার সব দিয়ে দিয়েছেন। 

                                                  



আমরা যারা ইসলাম নিয়ে জানি না, চিন্তা করি না একটুকুও তারা একটা কথা রাখতে পারবেন? দিনের আধা ঘণ্টা নিজের ধর্মের পিছে সময় দিন। স্টাডি করুন। প্রবেলম ফেইস করলে হেল্প করার ট্রাই করব, ইন শা আল্লাহ্‌। ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে কতক্ষণ লাগে ভাই? প্রতি ওয়াক্ত ১০ মিনিট করে ধরলেও ৫০ মিনিট; এক ঘণ্টার কম। এই একটা ঘণ্টা যদি ইসলামের জন্য কাজে না লাগান, নামায না পড়েন; তাহলে আপনি কিসের মুসলিম? কি জবাব দিবেন হাশরের ময়দানে? আর তো ফিরে আসতে পারবেন না হাজার চাইলেও।     

                                             
     

আপনাদেরই ভাইবোনেরা ইসলাম চর্চা করে আপনাদের চেয়ে এগিয়ে গিয়েছে জান্নাতের পথে। আপনি কি চান না জান্নাতে যেতে? নাকি চান জাহান্নামে অনন্তকাল জ্বলে পুড়ে মরতে।            

সামনে রামাদান আসছে। একটু সচেতন হন ভাইবোনেরা। নামাজটা ধরুন। দেখবেন যত বদ্যাভাস এমনিতেই দূর হয়ে যাবে, ইন শা আল্লাহ্‌। একজন মুসলিম ভাই আপনাদের অনুরোধ করছে রাখবেন না?

ইনশা আল্লাহ্‌। আমি আশায় রইলাম। 


 জাজাকুমুল্লাহু খাইরান।                    

Wednesday, June 3, 2015

পর্যবেক্ষণ - ৬ | কথোপকথন

 بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

                        শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়অতি দয়ালু 



কথোপকথন 

মূল উদ্দেশ্য: বাস্তব জীবনে দাওয়াহ দিতে গিয়ে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তা কথোপকথনের মাধ্যমে তুলে ধরা, মেসেজ দিবার চেষ্টা করা।

আজকের পর্বের স্থান: কর্পোরেট কর্মস্থল
কাল: আসরের ঠিক আগমুহূর্তে
পাত্র: ২ জন।

পর্ব - ১: 

: আমি আল্লাহ্‌ ছাড়া আর কাউকে ভয় পাই না।
: তাহলে নামাজ পড়েন না কেন?
: নামাজ পড়ে অতি সাধু সাজার ইচ্ছে আমার নাই।
: মৃত্যু ভয় পান?
: পাব না কেন? মৃত্যু তো সবাই ভয় পায়।
: তাহলে আপনার আরেকটি ভয় এড হল। আরও বের হবে।
: যেমন?
: যেমন, ধরুন আপনি সামহাউ জানলেন আপনার হাতে আর আধা ঘণ্টা আছে। এর পর আপনি মারা যাবেন। কি করবেন এখন?
: আমার শেষ ইচ্ছে, আমি নামাজ পড়ে সব ক্ষমা চেয়ে নিব। আল্লাহ্‌ কিন্তু অনেক দয়ালু।
: একটু আগেই না বললেন, সাধু সাজার ইচ্ছে নাই, এখন আবার মৃত্যুর আগে সাধু সাজতে চান?
: ইয়ে মানে, আদিব এত প্যাঁচাও কেন! বললেই তো পারো, আমি হিন্দু হয়ে গেসি।
: না, আপনি হিন্দু নন। আমি আপনাকে কোন ক্যাটাগরিতে ফেলতে চাই না। আমি নিজেই গুনাহগার। সাধু সাজার প্রবণতা আমার মাঝেও আছে। নামাজে আসেন।
: এখন না! অনেক কাজ পড়ে আছে।


                                       



: আপনি কার গোলাম?
: কি বলতে চাচ্ছ?
: বলতে চাচ্ছি আপনি কি নিজের ইচ্ছার গোলাম, নাকি আল্লাহ্‌র?
: কেন, আমরা সবাই তো আল্লাহ্‌র গোলাম।
: তার মানে আপনি আল্লাহ্‌র একজন গোলাম। আমরা সবাই গুনাহ করি। আপনিও করেন। তার মানে আপনি একজন গুনাহগার গোলাম। চলেন, তাওবা করি। নামাজে আসি।
: আদিব, তুমি বুঝবা না কাজের প্রেশার কেমন....
: এতক্ষণ সময় দিলেন, আরেকটু দিয়ে যান। আপনি তো আল্লাহকে ভয় করেন, তাই না?
: এখন না। আদিব, যাচ্ছি, তুমি যাও। আর আমার জন্য দোয়া করবা বেশি করে!

অনুভূতি: স্বীয় জাহিল জীবনের কথা মনে পড়ে যায় :( 

শিক্ষা: পরের পর্বে আলোচনা করা হবে, ইন শা আল্লাহ্‌।   
      

Sunday, May 31, 2015

পর্যবেক্ষণ - ৫


 بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

                        শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়অতি দয়ালু 


ইমাম সুফিয়ান আস-সাওরিকে একবার আল্লাহর কুরআনের বাণী, “মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে” সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো, “দুর্বল বলতে কী বুঝানো হয়েছে?”

তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, 

“কোন পুরুষের পাশ দিয়ে একজন নারী গেলে সে নারীটির দিকে তাকানো থেকে নিজেকে সামলাতে পারে না এবং এতে (নারীটির দিকে তাকানোর মাঝে) তার কোনই উপকার নেই। এর চেয়ে বেশি দুর্বল আর কোন কিছু আছে কি?”

[হিলইয়াহ আল-আউলিয়া, ৭/৬৮]

অতি উত্তম ও সত্য কথা!!

কিছু নারীবাদী বোনেরা বলেন, তারা যেমন খুশি তেমন কাপড় পরিধান করবেন; কেন আমরা পুরুষেরা তাদের দিকে তাকাবো? আমাদের কোন অধিকার নাই তাদের দিকে তাকানোর।

আসলে আপনাদের দিকে তাকানোর মধ্যে আমাদের কোন উপকার নাই। বরঞ্চ অনেক ক্ষতি হয়! নারীদের প্রতি পুরুষেরা আকৃষ্ট হবে, এটা আমাদের ফিতরাত; এটা স্বাভাবিক। আমরা নপুংসক নই! আপনারা বেপর্দা চলাফেরা করবেন আর আমরা কতক্ষণ চোখ নামিয়ে থাকতে পারব? বেশিক্ষণ পারব না। এখানেই ইমাম সুফিয়ান সাহেব যথার্থই বলেছেন- ''এর চেয়ে বেশি দুর্বল আর কোন কিছু আছে কি?''

অনেক বোনেরা বলেন, ইসলামে শুধু নারীদের পর্দা করতে বলেনি, বলেছে পুরুষদেরও। কেন আমরা নিজেদের চরকায় তেল না দিয়ে নারীদের পর্দা পর্দা বলে লাফাই! ওয়েট! উত্তর দিচ্ছি, কেন লাফাই! হ্যাঁ, অবশ্যই ইসলাম বলেছে। আমাদেরও পর্দা আছে। এ বিষয়ে আমাদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ্‌ কুর'আনে কি বলেছেন শুনুন-

"মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।" (১)

                                               

বোনেরা, আল্লাহ্‌ কিন্তু আপনাদের জন্যও ঠিক পরের আয়াতেই বলেছেন। দেখুন কি বলেছেন আল্লাহ্‌-

"ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।" (২)

আপনারা কি এর একটাও মানেন? নিজের ইচ্ছা মত পোশাক পরিধান অধিকার কে দিয়েছে আপনাদের? উল্টো আমাদেরই বলছেন, নিজের চরকায় তেল দিতে! ভণ্ড আমরা, নাকি ভণ্ড আপনারা? আপনারা যদি মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে না রাখেন, কিভাবে আমরা দৃষ্টিনত রেখে টিকে থাকব!


                                               

সম্মানিত বোনেরা, বুঝতে পারছেন কি কারণে পর্দা পর্দা বলে আমরা আপনাদের মাথা ব্যথা করে দিচ্ছি। শুধু আপনাদের ভালোর জন্য। যেন আপনারা দৃষ্টি নত রাখেন এবং যৌন অঙ্গের হেফাযত করতে পারেন। বোনদের সাথে কোন ধরনের দুর্ঘটনা সমাজে না ঘটুক, এটাই তো ভাইয়েরা চায়। আপনারা যদি সাহায্য করেন তাহলে আমরাও নিজেদের দুর্বলতা এড়িয়ে ভালো ভাবে পথ ঘাটে চলাফেরা করতে পারব smile emoticon

আসুন, ভাইবোনেরা আমরা আল্লাহ্‌ সুবহানু তা'আলার সামনে আমাদের কৃতকর্মের জন্য তাওবা করি যেন আমরা সফলকাম হই এই দুনিয়ায় আর সেই অনন্ত সময়ের আখিরাতে smile emoticon


ইন শা আল্লাহ্‌। জাজাকুমুল্লাহু খাইরান smile emoticon
re

রেফারেন্স:

(১) সূরা আন-নূর আয়াত-৩০

(২) সূরা আন-নূর, আয়াত-৩১

Monday, March 16, 2015

পর্যবেক্ষণ - ৪

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে শুরু করছি 

উৎকোচ আদান-প্রদান যে শুধুমাত্র সরকারি ক্ষেত্রগুলোতে বিদ্যমান এটা ভেবে থাকলে ধরে নিন আপনি এতদিন ভুল জানতেন।
প্রতিদিন কর্পোরেট জগতের নোংরা নোংরা দৃশ্য দেখতে দেখতে হাঁপিয়ে উঠেছি। প্রবল প্রতিযোগিতার এই জগতে কে কাকে কিভাবে ঠকাবে এই ধান্ধায় থাকে। চোখের সামনে লাখ লাখ টাকা উধাও হয়ে যেতে দেখেছি। এসবের মাঝেও সৎ মানুষের দেখা পেয়েছি, দেখা পেয়েছি অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো কিছু মানুষের। এই জগতে Honesty কে পাত্তাই দেয়া হয় না। একজন Honest Officerকে সবার সামনে চোর বানিয়ে দেয়া হয় মুহূর্তেই। মাঝে মাঝে Increment হয় না, Promotion আটকে থাকে। প্রচুর তোষামোদি করতে হয়। না হলে ফাইল আটকে থাকে একটি টেবিলে; সামনে আগায় না। জবলাইফের প্রথমদিকে Honest থাকা মানুষগুলোর Honesty কে মারাত্মকভাবে discourage করা হয় এখানে। আর সেজন্যই মনে হয় কিছু সুন্দর মনের অধিকারী মানুষ আলোর পথ ছেড়ে অন্ধকারের দিকে পা বাড়ায়। ধীরে ধীরে বদলে পরিণত হয় পাথর হৃদয়ের যন্ত্রমানবে।
টাকা! টাকা! কিছু কাগজ মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করছে। মানুষ এর চারদিকে চরকির মত ঘুরছে। মানুষের মন, প্রবৃত্তি সবকিছু হয়ে পড়েছে এই টাকার কাছে বন্দী।
এসবের বাইরে সব কর্পোরেট জোনই বলতে গেলে নারীপুরুষ মিশ্রিত। সে সমস্যা তো আছেই। আমার ব্লগ নতুন দিনের স্বপ্ন-এ এই বিষয়ে কিছু লিখেছিলাম। স্রোতের বিপরীতে চলা একজন মানুষকে দিনের পর দিন এই জগতে টিকে থাকতে হয়। লক্ষ্য একটাই হালাল উপার্জন। এটাও একধরনের প্রতিযোগিতা। খারাপকে পিছনে ফেলে আরও ভালো হবার প্রতিযোগিতা।
Happiness is এত এত প্রতিকূল পরিবেশে থেকে দ্বীনের কাজ চালিয়ে যেতে পারা। অন্ধকারে চলে যাওয়া কিছু মানুষের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়া। আলোর দিকে আহবান করা। এত এত কষ্টের মাঝে এই হল এক চিলতে শান্তি। আলহামদুলিল্লাহ্‌ :) 

১৫ই মার্চ, ২০১৫ খৃস্টাব্দ   

Wednesday, February 11, 2015

পর্যবেক্ষণ - ৩ : কর্পোরেট ফ্রি-মিক্সিং

                                             بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

                        শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়অতি দয়ালু

প্রায় ৫ মাস পর ব্লগে কিছু লিখতে বসলাম। কাজের চাপে লিখালিখির সময় হয়ে উঠে না আর আগের মতন। মাথায় অনেক বিক্ষিপ্ত চিন্তা-ভাবনা ঘুরাফেরা করে। বাস্তব জগত হতে প্রাপ্ত কিছু চিন্তা এতদিন ধরে মজুদ করে আসছি। হঠাৎ ভাবলাম, ছুটি যখন মিলেছে একটু লিখালিখি হয়ে যাক আগের মতন। সে সুবাদে আজকে লিখতে বসা। আজকের লিখার পটভূমি কর্পোরেট দুনিয়ায় নারীপুরুষের অবাধ মেলামেশাকে ঘিরে আমার চিন্তাভাবনা। অনেকেই অনেক কিছু চিন্তা করে। অনেকে ফাতওয়া দেয় এই বিষয়ে। আমি যেহেতু কোন আলেম নই, কেবল একজন ত্বালিবুল ইলম; সেহেতু আমার দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করতে চাই কোন ধর্মীয় রেফারেন্স না দিয়ে। বলতে পারেন Neutral Way তে চিন্তন। কাজের কথায় আসি। 

মেয়েরা কর্পোরেট জোনে ছেলেদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করুক এটা আমি চাই না প্রতিদিন কর্পোরেট হাউজে এসবের কদর্যতা দেখছি আমি আমি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে বলব, মেয়েদের ঘরের বাইরে কাজই করা উচিত না কাজ বলতে সেসব প্লেসে যেখানে ফ্রি মিক্সিংএর চান্স আছে

প্রতিদিন দেখি নারী পুরুষের গা ঘেষাঘেষি টাইপের আচরণগুলো। একটা অবিবাহিত ছেলে কেন একটা বিবাহিত মেয়ের চুলের প্রশংসা করে টান দিবে! এটা আমার বুঝে আসেনা। এক্ষেত্রে অনেকেই ঢালাওভাবে ছেলেদের দোষ দিয়ে থাকেন। আমি মনে করি ছেলেটির সাথে সাথে মেয়েটিরও দোষ আছে। কেননা সে কেন প্রশ্রয় দিচ্ছে পরপুরুষকে এত ঘনিষ্ঠ হতে! মেয়েটি লাই দিচ্ছে বলেই তো ছেলেটি মাথায় উঠে নেচে চলেছে। প্রতিদিন দেখি, স্কার্ফিরা (মডারেটরা যাদের হিজাবি বলেন) পুরুষ কলিগদের সাথে হিহি হাহা করে। লাঞ্চ আওয়ারে একসাথে.... কিছু জিনিস চোখে পড়ে, যেসব জিনিস আমার লিখতে বাঁধে, সহজে বলা যায় না সেসব

আলহামদুলিল্লাহ, আমি যে জোনে কর্মরত সেখানে যে 'জন প্রকৌশলী আছেন সবাই ইসলামের হুকুম আহকাম সম্পর্কে অবগত। জামআতে সালাত পড়েন, নারীদের ঘরের বাহিরে ফ্রি মিক্সিং জোনে কাজের ঘোর বিরোধী। ভাইদের স্ত্রীরা সবাইই গৃহিণী। আর আমার জোনে কোন মেয়ে নাই। ফিতনাহ হতে বেঁচে আছি বলতে গেলে, আলহামদুলিল্লাহ

কিন্তু অফিসিয়াল পারপাসে, প্রায়ই অন্য জোনগুলোতে ভিজিটে যেতে হয়। অন্য জোনের প্রকৌশলীদের সাথে ডিরেক্ট ইন্টারেকশনে যেতে হয়। সেক্ষেত্রে বাঁধে বিপত্তি, এটা আমার ক্ষেত্রেই হয় বলে মনে হয়। অনেক কষ্ট করে সে ঘন্টাগুলো পার করে দিই অফিসে। আল্লাহ মাফ করুন আমায়। একেবারে প্রয়োজন ছাড়া কোন কথাই বলি না, যদিও বিপরীত দিক হতে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াটা অনুভব করি

আমি ফেইসবুকে নারীর ঘরের বাহিরে কাজের ব্যাপারে কিছু লেখা লিখেছিলাম। তা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল অফিসের কিছু 'স্কার্ফি' কলিগদের (ইনারা ফলো করেন)। ইনারা একদিন আক্রমণ করে বসেছিলেন এই বলে, 

'এত পড়াশুনা করেছি কিসের জন্য? প্রেস্টিজের ব্যাপার-স্যাপার। জামাইয়ের টাকায় আমি চলতে পারবো না!'....

তাদের এসব কথা আমায় খুব অবাক করে। আমার আম্মা একজন শিক্ষিত মহিলা। তিনি একজন গৃহিণী, কোন চাকরী-বাকরী না করে আমাদের পিছেই উনার সারাটা সময় ব্যয় করে দিয়েছেন। শুধুমাত্র আমাদের মানুষ করার জন্য। উনি চাকরী করলে বোধহয় কাজের বুয়াদের হাতেই মানুষ হতাম আমরা। আর বর্তমানে ক্যারিয়ার সচেতন মায়েদের বাচ্চাদের বেলায় ঠিক এটাই হচ্ছে। তারা সকাল টু সন্ধ্যা অফিসে সময় কাটাচ্ছেন, পুরুষ কলিগদের সাথে হিহি হাহা করছেন আর তাদের কোমলমতি বাচ্চারা বেবিকেয়ারে/বুয়ার কাছে পড়ে আছে। আমি প্রতিদিন এসবই দেখছি

ঘরের বাহিরে ফ্রি মিক্সিং জোনে নারীদের কাজের ব্যাপারে আমি সচেতন, আলহামদুলিল্লাহ। আম্মাকে দেখেছি। খুব চাই আমার ভবিষ্যৎ স্ত্রীও উনার মত হোক; উনার পথ অনুসরণ করুক। আমি ইনকাম করছি, টাকার যোগান দিচ্ছি সংসারে। আমি থাকতে কেন আমার বউ বাইরে কাজ করবে? এখানে তো প্রেস্টিজের ব্যাপার জড়িত।  চিন্তাটা কেন প্রত্যেক মুসলিম পুরুষের ঘিলুতে ঢুকে না, আমার বুঝে আসে না

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ খৃস্টাব্দ    

Tuesday, August 12, 2014

পর্যবেক্ষণ - ২ : টিভির অ্যাড




টিভির অ্যাড গুলো কি আমাদের মাথা খাচ্ছে? 


প্রারম্ভিকা: 

আসসালামু আলাইকুম আমি সাধারণত টিভি দেখি না বললেই চলে আলহামদুলিল্লাহ টিভি অ্যাড সংক্রান্ত আমার লেখাটি অনেকে শেয়ার করেছেন বলে অনেক ধন্যবাদ সেই সাথে অনেক বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে দুঃখিত অনেকেই ভুল ভেবে বসেছেন আমাকে হঠাৎ টিভির পর্দায় পরপর এসব দেখেই লেখা আর মানুষকে সচেতন করার জন্যই লেখা অন্য কোন অসৎ নিয়্যাহ ছিল না আপনি যদি সমাজের অসংগতি নিয়ে কিছু বলতে চান তাহলে আপনাকে তা গভীরভাবে খেয়াল করতে হবে বিশ্লেষণ করতে পারবেন না এটা ছাড়া মানুষকে বুঝাতেও পারবেন না আপনি আমরা যারা লেখালিখি করি, কোন লাইক/কমেন্ট কামাই করার জন্য লিখি না ইচ্ছা একটাই বদলে দেব, দুঃখ একটাই, এমন জেনারেশন চাইনি, চাইব না ভবিষ্যতে একমাত্র আল্লাহর জন্য, এসব লেখা না হলে আমার মহামূল্যবান সময় নষ্ট করে ফেসবুকে এসব লেখার কোন ফায়দা নাই আসলে চুপ থেকে সব দেখে গেলেই তো চলত! সমালোচনা সহ্য করা যায়, কিন্তু না জেনে না বুঝে সমালোচনা করাটা পছন্দনীয় না 




# ফেয়ার এন্ড লাভলির বদৌলতে এতদিন শুনতাম এটা আসলেই রং ফর্সা করে আর এদের মার্কেটের টার্গেট হল মেয়েরা একটু শ্যামলা মেয়েরা রং ফর্সার জন্য অহেতুক না বুঝে ব্যবহার শুরু করে দিল মার্কেটটাকে আরো চওড়া করতে এবার তারা নিয়ে এল ম্যানজ একটিভ ছেলেদের ক্রিম মানে ক্রিম ডলে ডলে ছেলেদের ফর্সা করবে আবার এর সাথে মাঝে মাঝে রেজারও ফ্রি দেয়া হয় মার্কেটিং পলিসি কত প্রকার কি কি, এসব আইডিয়া দেখলেই বুঝা যায় তার মানে কি দাড়াঁলো? এতদিন যে ছেলেটা ক্রিম ডলল মুখে, এটাতে হবে না মুখে 'চুল' ওঠা মাত্রই তাকে সাবাড় করতে হবে দাড়িঁ দিয়ে মুখভরা থাকলে তো সৌন্দর্য বুঝা যাবেনা সৌন্দর্য বুঝাতে হলে পুরা মুখ ক্ষুর দিয়ে পরিষ্কার করে ফকফকা করতে হবে! এজন্য ক্রিমের সাথে রেজার ফ্রি! আহা! 


ফলাফল: ইয়ং জেনারেশন, মেয়েরা সুন্দরী হবার প্রতিযোগিতায় নামল, আর ছেলেরা নামল কিভাবে মুখটাকে ফর্সা আর মসৃণ করা যায় মুখটা বন-জঙ্গলে ভরে থাকলে ক্লাসের সেই মেয়েটা তাকে লাইক করবে না তো! 



# মেরিল স্প্লাশ উনারা কখনোই তরুণ তরুণীদের ফর্সা করতে নামেননি মূলত বানান ট্যাল্কম পাউডার, সাবান, লোশন এসব মার্কেটে টিকতে এবার তারা নিয়ে এলেন নতুন আইডিয়া 'সুন্দর প্রকাশ পায় না রংয়ে' 'শ্যামলা কালো ফর্সা' সবই সুন্দর তাই ইউনিভার্সাল সল্যুশন নিয়ে এলেন তারা ফ্রেশ থাকতে হবে তুমি যতই কালা-ধলা হও না কেন? এবারের টার্গেট যথারীতি -- তরুণীরা 


ফলাফল: এবার ফ্রেশনেসের জন্য ব্রেইনওয়াশড তরুণীরা 

ভাই থামেন! আপনাদের মত করেই বলতে চাই ফ্রেশ চিন্তা করুন বাহ্যিক সৌন্দর্যে কি হবে যদি না আপনার অন্তর কলুষিত হয় ছেলেমেয়ে সবার ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য অনেক বোন হীণমন্যতায় ভোগেন 'আমি তো কালো/শ্যামলা' তারপরই শয়তানের বানানো ফর্মুলায় নিজেকে সপেঁ দেন বোন আমার, আপনার অন্তর পবিত্র করুন বাইরের সৌন্দর্যে কি কোন লাভ হবে আসলেই চিন্তা করুন তো! আপনি চিন্তা করছেন-- আপনার বিয়ে হবে না তাই এসব ইউজ করছেন আল্লাহ চান তো নিজেকে প্রস্তুত করেন যার সাথে আপনার দেখা হবে তার জন্য তিনি যদি আসলেই ঈমানদার হন, তিনি আপনার অন্তরের রূপই দেখবেন, আখলাক দেখবেন গায়ের রং না সঙ্গী নির্বাচনের শর্ত তো বলেই দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) হাদিসে দেখুন তো কি বলা হয়েছে সবার আগে সৎ চরিত্র, তারপর বংশমর্যাদা, তারপর সৌন্দর্য হতাশ হচ্ছেন কেন? চরিত্র, অন্তর পবিত্র করুন দুনিয়ার এসব বস্তু ব্যবহারে আপনার আখিরাতের শান্তির জন্য কোন ফায়দা হবে না সিরিয়াসলি! 


# সার্প ব্লেড উনারাও তরুণদের মুখ কিভাবে মসৃণ করা যায় তার পিছে লেগেছেন ব্যবসা করেছেন অ্যাডে যা দেখি তা মূলত এমন-- 


ভার্সিটির এক সুন্দরী ছাত্রী রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন ছেলেরা ফিরে ফিরে তার দিকে বারবার তাকাচ্ছেন যে ছেলেটার পাশে বসা একটা মেয়ে সেও ভুলে তাকাচ্ছে মেয়েটা মুখ তার দিকে ফিরিয়ে নেয়ার বৃথা চেষ্টা করছে এবার সুন্দরীর মুখে আলো এসে পড়ল সে বেচারা ঝলকানিতে তাকাতেই পারছেনা দূরে দেখা গেল হাস্যোজ্জ্বল এক যুবক স্বীয় গালে হাত বুলাতে বুলাতে হাসছেন আলোর ঝলকানিটা তার মুখ থেকেই ঠিকরে বের হচ্ছে 

অ্যাডটা এবার খেয়াল করুন প্রথমে কি দেখানো হল আর শেষে কি দেখানো হল প্রথমে নারী রূপ দেখিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, পুরুষেরা মন্ত্রমুগ্ধ শেষে সেই নারী আরেক পুরুষের রূপে মন্ত্রমুগ্ধ গভীরভাবে যদি চিন্তা করেন তাহলে দেখবেন এখানে মেয়েটা একটা 'শো পিস' হিসেবেই ইউজ হল আর মূল ঘটনা হল ক্লিনসেইভড ছেলেটা অতঃপর এসব দেখে দেখে আমাদের তরুণসমাজ তা অনুকরণে ব্যস্ত 'আরে! মেয়েটা তো আমার দিকে তাকাইসেরে, সেইভ কইরা সফল আমি' - এমন তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলায় ব্যস্ত 

ফলাফল: এবারও ব্রেইনওয়াশড তরুণেরা সাথে নারীদের 'শো পিস' হিসেবে ব্যবহার করে পুরুষের মনোরঞ্জনের চেষ্টা 


আজকাল টিভি-চ্যানেলের ৩টি জনপ্রিয় অ্যাড নিয়ে এতক্ষণ কথা বললাম ফলাফল বললাম সম্ভাব্য সমাধান কি হতে পারে তাও বললাম একটু চিন্তা করেন- আল্লাহর এই দুনিয়ায় ব্যবসা করার মত হাজারো ভাল চিন্তা আছে, ক্ষেত্র আছে আর এরা যে এসব উদ্ভট উদ্ভট আইডিয়া বের করে আমাদের ইয়ং জেনারেশনটাকে শেষ করে দিচ্ছে- বলুনতো এদের ব্যবসা কি হালাল নাকি হারাম? 

আল্লাহ আমাদের সবাইকেই চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতা দিয়েছেন এখন আমরা যদি এটা কাজে না লাগিয়ে গাধার মত এসব আবর্জনার পিছে ছুটি, ক্ষতিটা কার হচ্ছে? আমাদেরই কিন্তু তাই কোথাও ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজেকে সপেঁ দেবার আগে একটু চিন্তা করুন 

মাথায় যদি একটু ঘিলুও আল্লাহ দেন, তাহলে উপরের কাহিনীগুলো বুঝতে পারবেন ইন শা আল্লাহ 

আল্লাহ সুবহানাল্লাহু তা'আলা এসব দুইনম্বরী জিনিসে ব্রেইনকে কাজে না লাগিয়ে ভালো কাজের পিছনে কাজে লাগানোর তৌফিক দিন এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রত্যেকের চেষ্টাসমূহকে কবুল করে নিন আমিন 

জাজাকআল্লাহ খাইরান 

২রা শাওয়াল, ১৪৩৫ হিজরী 

৩০ জুলাই, ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ