Showing posts with label স্মরণিকা. Show all posts
Showing posts with label স্মরণিকা. Show all posts

Monday, February 27, 2017

দ্বীন শিক্ষায় সতর্কতা । পর্ব - ২


  بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

              শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু 


দ্বীন শিক্ষায় সতর্কতা । পর্ব - ১ এর পর .............. 


জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে ইবলীস জাহান্নামে যাবে না। ইবলীস জাহান্নামে যাবে আল্লাহর প্রতি ভয় না-থাকার কারণে। সাংঘাতিক এই পীড়ার কারণে মৃত্যুর চেয়েও ভয়ংকর পরিণতি থেকে তার জ্ঞান তাকে বাঁচাতে পারবে না। যারা হাতে গোনা কিছু বই পড়েছে, অমুক-তমুক কলেজ থেকে গ্রাজুয়েট হয়েছে কিন্তু তারবিয়্যার শিক্ষা পায়নি, তাদের পরিণতিও একই। তাদের মধ্যে আল্লাহভীতির চরম ঘাটতি আছে। তাদের কামনা-ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য তারা জ্ঞানের অপব্যবহার করে ইসলামিক বিধিবিধানের ফাঁকফোকর খোঁজে। তারা তাওয়ীলাত (ব্যাখ্যা ও ওজর) তৈরি করে। এবং তাদের বক্তব্যের সমর্থনে—খালি চোখেই যেটার ভুল ধরা পড়ে—কুরআন-হাদীস ব্যবহার করে। তারা যে নিজারেই তাদের জাহান্নামের পথ সুগম করছে সে ব্যাপারে যেন একেবারেই বেখেয়াল। তাদের এই জ্ঞান তাদের জীবিকা অর্জনের একটা উপায়; আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার নয়।
একজন প্রকৃত ‘আলিম একটি বাতির মতো। ঘরে কেউ আছে কি না সেটা নিয়ে তিনি মাথা ঘামান না। আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার কারণেই তিনি ঘরটা আলোকিত করেন; কারণ এটাই যে তার স্বভাব! স্বাভাবিকভাবেই যারা তাঁর আশেপাশে থাকেন, তারা তাঁর জ্ঞানের আলোয় নিজেদের উদ্ভাসিত করেন। যদিও সেই ‘আলিম ব্যক্তিগতভাবে এগুলো নিয়ে মোটেই চিন্তিত নন; বাতি কি কখনো জিজ্ঞেস করে, ‘কেউ কি আমার দিকে তাকিয়ে আছে?’ বাতির শিখা একা একাই জ্বলজ্বল করে জ্বলে ওঠে। এটাই তার প্রকৃতি। জ্বলে ওঠা ছাড়া আর কী করার আছে তার! আর এটাই ‘উলামা-উল-হাক়—প্রকৃত বিদ্বানদের বৈশিষ্ট্য। জ্ঞানের মাঝেই তাঁরা গড়ে তোলেন তাঁদের বসতি, কেননা তাদের মনে শুধু একটিই অভিলাষ: আল্লাহর সন্তুষ্টি।

Friday, January 6, 2017

দ্বীন শিক্ষায় সতর্কতা । পর্ব - ১


  بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

              শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু 


অনেকেই প্রশ্ন করেন, “কোনো ‘আলিম—যিনি অনেক জানেন, কিন্তু তার মধ্যে হয়তো সেই পরিমাণ চর্চা নেই—সে কী করছে না করছে এত কিছু না-ভেবে শুধু দীন শেখার উদ্দেশ্যে তাঁর কাছে গেলে ক্ষতি কী?”
আপাতদৃষ্টিতে প্রশ্নটি যুক্তিসঙ্গত মনে হলেও, নিজেকে একবার জিজ্ঞেস করে দেখুন তো, “আমি কি এমন কারও কাছ থেকে বিমান ওড়ানো শিখব, যে কিনা বিমান সম্বন্ধে সবকিছুই জানে, অথচ কখনো কোনো বিমান ওড়ায়নি?”
আসলে সমস্যাটা হচ্ছে ইসলামের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে। ইসলাম কোনো মতবাদ বা কারও ব্যক্তিগত ভাবাদর্শ নয়। ইসলামের সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হয়েছে একে মতবাদের স্তরে নামিয়ে এনে। আর দশটা মতবাদ আর দর্শন যেভাবে শিখি ইসলামকেও আজ আমরা সেভাবে শিখছি। আমরা ইসলামের মূলনীতিগুলো শিখি, আইনের জটিল খুঁটিনাটি বিষয়গুলো শিখি, এটা ওটার মানে শিখি―কিন্তু যা শিখেছি সেটা চর্চা করার কোনো প্রয়োজন দেখি না। এটাই কি পূর্বসূরি-সালাফদের নীতি?

আপনারা অনেকেই ইব্‌ন ‘উমার (রা.)-এর সেই ঘটনাটার সাথে পরিচিত। সেখানে আমরা দেখি, সবকিছুর ওপরে তাঁরা চর্চা বা ‘আমাল করাকে গুরুত্ব দিতেন। যা শিখেছেন সেটার চর্চা করে সন্তুষ্ট না-হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ইচ্ছে করেই আর নতুন কিছু শিখতেন না। কত সুন্দর করেই না আমরা মানুষদের এ ঘটনাগুলো বলে বেড়াই কিন্তু আমাদের মধ্যে সেই চর্চা কোথায়? এটা কেমন মানসিকতা?

ইসলাম একটি জীবন ব্যবস্থা। নৈতিক মূল্যবোধের বাস্তব প্রতিচ্ছবি। চর্চা ও আচার-আচরণের মাধ্যমে ইসলামের প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠে। পরিপূর্ণভাবে ইসলাম চর্চা করছেন এমন কাউকে সরাসরি দেখে ও তাঁর সাথে থেকে ইসলাম যতটা শেখা যায়, কেবল বই পড়ে কিংবা কিছু লেকচার শুনে তার সামান্যই শেখা যায়। সাহাবাদের মর্যাদা কেন এত উঁচুতে? কারণ তাঁরা পেয়েছেন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গ। তাঁর সাথে থেকে থেকে ইসলামের পাঠ নিয়েছেন সাহাবারা। নিজেদেরকে দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করে এভাবেই শিক্ষা দিতেন পূর্বসূরি বিদ্বানগণ।

Friday, November 4, 2016

ইলম -৭


               بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

              শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু 


১০ টি ব্যাপারে তোমাদের অন্তর মরে গেছে .............  

একদিন ইব্রাহিম ইবনে আদহাম (রহিমাহুল্লাহ) বসরা শহরের একটি বাজারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকজন তার পাশে সমবেত হয়ে জিজ্ঞাস করল: হে আবু ইসহাক ! আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা কুরআনে বলেন: “আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব।” কিন্তু আমরা অনেক দিন ধরে দোয়া করছি অথচ আল্লাহ আমাদের দোয়ার সাড়া দিচ্ছেন না।

ইব্রাহিম বিন আদহাম বললেন, “ওহে বসরার অধিবাসী, দশটি ব্যাপারে তোমাদের অন্তর মরে গেছে:
১) তোমরা আল্লাহর সম্পর্কে জানো কিন্তু তার প্রতি তোমাদের কর্তব্যগুলো পালন করো না।
২) তোমরা কুরআন পড়ো ঠিকই কিন্তু সে অনুযায়ী আমল কর না।

৩) তোমরা দাবী কর যে রাসূলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভালবাসো কিন্তু তার সুন্নাতকে অবহেলা করো।

Tuesday, November 3, 2015

উপলব্ধি - ৯ | জন্মদিন

                          
                                    بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

     শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু 


কুফফাররা (এটা কোন গালি নয়, আল্লাহকে অস্বীকারকারী অর্থে ইউজ করেছি) বিলিভ করে আমাদের এই জীবনটা হল একটা যুদ্ধ। কার সাথে যুদ্ধ? প্রকৃতির সাথে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমরা প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে একটা সময় এই প্রকৃতিরই অংশ হয়ে যাই। এটাই তারা বিশ্বাস করে। পৃথিবীর নানা প্রান্তে নানা ধরনের মতবাদ চালু আছে। আপনি যদি পশ্চিমা সমাজের দিকে তাকান তাহলে বুঝবেন তারা কোন ভিউটা অন্তরে ধারণ করে আছে। ফর এক্সাম্পল, নেইটিভ অ্যামেরিকানদের কথাই ধরুন।  তাদের আদি পিতারা মনে করত তারা প্রকৃতির একটা অংশ, এজন্য তারা প্রকৃতির বিরুদ্ধে যেতে চাইত না, এর কোন ক্ষতি করত না। তারা মনে করত শুরু থেকে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ চলছে। কিরকম সে যুদ্ধ? একেবারে বাচ্চাকালে মানুষ যখন পৃথিবীতে আসে তখন তাকে গরম ঠাণ্ডার সাথে খাপ খাইয়ে চলতে হয়। যদি সে খাপ খাইয়ে নিতে পারে তখনই সে বড় হয়। যদি না পারে তাহলে তাকে প্রকৃতি ফেরত নেয়। পশ্চিমা সমাজের ভিউ আর নেইটিভ অ্যামেরিকানদের ওল্ড ভিউয়ের মধ্যে কোন তফাৎ নাই। একটা বাচ্চা যখন বড় হয় তারা ভাবে সে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে জিতে বড় হচ্ছে। এইজন্য তারা তার বার্থডে সেলিব্রেট করে! কেক বানায়, ফুর্তি করে, মোমবাতি ফুঁকে গান গায়।

Monday, November 2, 2015

স্মরণিকা – ২ | দিনব্যাপী আহবান


                                    بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

     শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু 



আহবান – ১   

ফজরের জামা'আত মিস করে তোমার যদি কান্না না পায়.....
তাহলে বুঝে নিবা তোমার অন্তর মরে গেছে।



আহবান - ২

'থাক মসজিদে যাব না। বাসায় পড়ে ফেলি।'

ভাই, এভাবে যদি যুহরের জামা'আত মিস কর, তাহলে বুঝবা তোমার ঈমান কমে যাচ্ছে। ঈমান জিনিসটা ব্যাটারির মতন। যত আমল করবা তত চার্জ আপ হবে।


Sunday, November 1, 2015

স্মরণিকা - ১ | জবান



                                    بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ



     শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু 



জবান: আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অজস্র নিয়ামতের মধ্যে একটি। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ এই নিয়ামত দিয়েছেন বলেই না কত সুন্দর করে আমরা কথা বলতে পারছি। মাঝে মাঝে আমরা এই সুন্দর নিয়ামতের কথা ভুলে বসি। আমাদের মুখ দিয়ে ভালোর পরিবর্তে কটু কথা, গালি-গালাজ বের হয়। অনেকসময় শিরকি কথাও বলে বসি। যে আল্লাহ অনুগ্রহ করে জবান দিলেন, সে আল্লাহকে ভুলে সেই জবান দিয়ে আমরা মুশরিকের মত কথা বলে বেড়াই। গীবতের মত জঘন্য কাজ করে বেড়াই। ভাইদের ব্যাপারে খারাপ ধারণা পোষণ করে একজনের কথা আরেকজনকে আড়ালে বলে দিই।