Friday, January 3, 2020

এক অপরিচিত সেলিব্রিটি - ৪

 بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু 


সুমাইয়া বিনতে খাইয়াত -  এই শক্তিশালী নারী ইসলামে প্রথম শহীদ বলে ভূষিত


নারীকে যোগ্য সম্মান দিতে আজও কুন্ঠা বোধ করে আমাদের সমাজ, সংসার। ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে একজন নারীকেই আমরা দেখি। যিনি ছিলেন রাসূল (ﷺ)এর প্রিয় সহধর্মিনী হযরত খাদিজা (রাযি.)। তেমনি, নিজের ঈমান রক্ষা করতে গিয়ে প্রথম যিনি শহীদ হয়েছিলেন, তিনিও ছিলেন একজন নারী- হযরত সুমাইয়া (রাযি.)।

সুমাইয়া বিনতে খাব্বাত বা সুমাইয়া বিনতে খাইয়াত হলেন ইসলামিক ঐতিহ্য অনুসারে হিজরত পূর্ব সময়ের প্রথম শহীদ সাহাবী এবং মহিলা যিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার কারণে আবু জাহলের হাতে নিহত হন। তিনি ইয়াসির ইবনে আমিরের স্ত্রী এবং আম্মার ইবনে ইয়াসিরের মাতা ছিলেন, যারা প্রাথমিক মুসলিম ধর্মান্তরিতদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।



ইসলামের প্রথম শহীদ হযরত সুমাইয়া (রাযি.)এর জন্ম হয়েছিল তৎকালীন আরবের নিম্নগোত্রের পরিবারে। যাদেরকে দাস অথবা দাসির কাজ করতে হতো। অভিজাত বংশের প্রভাব বা ছায়া তাঁর মাথার উপর ছিল না। রাসূল (ﷺ) দ্বীন ইসলাম প্রচার করার সাথে সাথে হযরত সুমাইয়া (রাযি.) ও তাঁর স্বামী এবং ছেলেরাও মুসলমান হয়ে যান।

Friday, December 20, 2019

এক অপরিচিত সেলিব্রিটি - ৩

 بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু 



মধ্যযুগীয় ভারতবর্ষের সঙ্গে পশ্চিমী পণ্ডিতদের কে আলাপ করিয়েছে জানেন?

আল বিরুনি : এক অপরিচিত সেলিব্রিটি 


আবু রায়হান আল বিরুনি বা আবু রায়হান মোহাম্মদ ইবনে আহমদ আল বিরুনি (৯৭৩-১০৪৮), ছিলেন মধ্যযুগের বিশ্বখ্যাত আরবীয় শিক্ষাবিদ ও গবেষক। তিনি অত্যন্ত মৌলিক ও গভীর চিন্তাধারার অধিকারী ছিলেন। তাঁর পূর্ণ নাম আবু রায়হান মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আল-বিরুনি। তিনি জন্ম নিয়েছিলেন ৩৬২ হিজরির ৩ জিলহজ মোতাবেক খ্রিস্টিয় ৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রাচীন ইরানের খারেজম প্রদেশের কাস শহরে। বর্তমানে এ অঞ্চলটি মূলত উজবেকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের অংশ।


বলা হয় গজনীর সুলতান মাহমুদ ভারতে হামলার সময় আল  বিরুনিকে নিজ সেনাদলের সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। এইসব সফরে বিরুনি ভারতীয় পণ্ডিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বা তাদের সম্পর্কে জানতে পারেন।  বিরুনি বেশ কয়েক বছর বা অন্তত এক যুগের এক বড় অংশ ব্যয় করেছেন ভারত সম্পর্কিত গবেষণায়। এ সময় তিনি সংস্কৃত সহ ভারতের নানা ভাষাও রপ্ত করেন। এ ছাড়াও এ সময় দর্শনসহ ভারতীয়দের নানা জ্ঞান সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করেন বিরুনি।

Thursday, November 28, 2019

ইসলামিক মুদ্রা

 بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু 


কবে থেকে চালু হয় ইসলামিক মুদ্রা? কেই বা প্রবর্তক?



পণ্যবিনিময় ব্যবস্থার আদিমতম মাধ্যম হিসেবে অর্থের লেনদেন সেই পুরাকাল থেকেই চলে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির মধ্যেও এর কোনো বিকল্প ছিল না। মুসলিমরা ব্যবসা-বাণিজ্যে অন্যদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়েই উন্নতি করেছিল সেই সময়। সেই সময়কার মুসলিম সাম্রাজ্যগুলির লেনদেন নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন এখনও অনেকের কাছে অজানা। 

মুহাম্মদ (সা:)-এর সময় বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ও পারস্য সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থা ও জীবন ধারণের সাথে আরবের দেশগুলির সমাজ ব্যবস্থায় পার্থক্য ছিল। ওই সাম্রাজ্যগুলি চলত সম্রাটের অধীনে এবং সম্রাট শেষ কথা বলতেন। কিন্তু আরবে ছিল উপজাতি ব্যবস্থা, উপজাতিদের মধ্যেই একরকম গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতা নির্বাচিত হতেন। 


আরবের সওদাগররা পণ্য নিয়ে সারিসারি উটে চাপিয়ে যেত ব্যবসা করতে। এই পণ্যের মধ্যে থাকত ধূপধুনো, আতর, মশলা, হাতির দাঁত, মুক্তো ইত্যাদি। এর মধ্যে বেশ কিছু জিনিস ছিল যেমন ধুনো বা গন্ধরস, এগুলি শুধু আরবেই পাওয়া যেত সেইসময়।  তাই এর চাহিদাও ছিল প্রচুর। 

Friday, October 11, 2019

ইলম - ৯

 بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু 


কখন ক্ষমা প্রার্থনা করবেন আল্লাহর কাছে?

রাতের প্রশান্ত মুহূর্তকে মনোবিজ্ঞানীরা দিনের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত করেন। এ সময়ই মানুষ তার অন্তরের আবেগ অনুভূতিকে অন্যের কাছে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করে। রাতে মানুষের মনের এ উন্মুক্ত অবস্থাকে কাজে লাগানোর সুযোগ গ্রহণে ইসলামে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

যে ব্যক্তির লক্ষ্য আখেরাতের সফলতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, সে ব্যক্তি তার রাতকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের কাজেই ব্যস্ত রাখবে।

হাদীসের বর্ণনায় এসেছে, রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশে আল্লাহ পৃথিবীর মানুষের কাছে আহ্বান জানান তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করার এবং তাদের চাহিদা সম্পর্কে জানানোর। যা পূরণের জন্য আল্লাহ নিশ্চিত ওয়াদা দেন।


রাতের বিশেষ এ মুহূর্তকে আল্লাহর সাথে কাটান। তার কাছে নিজেদের গুনাহের ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং যাবতীয় চাহিদা প্রকাশ করুন। এর মাধ্যমে আপনি আল্লাহর সাথে এমন দৃঢ় সম্পর্কে যুক্ত হবেন যে, দুনিয়ার কোনো বিষয়ই আপনাকে হীনমন্য ও হতাশ করবেনা।

Wednesday, September 25, 2019

বাস্তব বুদ্ধি দিয়ে জীবনসঙ্গী বাছুন

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু 


বৈবাহিক জীবনে অযাচিত সমস্যা এড়াতে সঠিক জীবন সঙ্গীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হয় অনেক ভেবে চিন্তে। কিছু ভালো মূহুর্তকে সঙ্গী করে বিবেচনা ছাড়া বিবাহ বন্ধনে না জড়ানোই ভালো। জীবনের ভবিষ্যত বিচার করে এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কগুলোকে আমাদের একটু সতর্কতার সাথে দেখতে হবে।

সঠিক জীবনসঙ্গী বাছার ক্ষেত্রে আমাদের জীবনে কিছু মানদন্ড রাখতে হবে, নাহলে আমরা আবেগের বশে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে নেব। যার ফল ভোগ করতে হবে আমাদের বাকি জীবন ধরে।

বাস্তব পথ অবলম্বন করে জীবনসঙ্গী বাছুন

আমাদের জীবনে ছোটো ছোটো অনেক মূহুর্তকে বেশি রকম প্রাধান্য দিয়ে আমরা বড়ো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিই। জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমাদের ভাবনাগুলো আরও পরিণত করতে হবে। অনেকে ভাবে বিবাহের পর সে ঠিক করে ফেলবে সবটা, কিন্তু এই ভাবনাতে সে বেশিরভাগ সময় ভুল প্রমাণিত হয়। আমরা পরিবর্তন করতে চাইলেও বিপরীতে থাকা মানুষটা যদি পরিবর্তন না চায় তবে সমস্যা সৃষ্টি হবে। তাই খাদ্যাভাস , ধর্ম বা ব্যাক্তিগত আরো কিছু ভালোলাগার বিষয়ে নূন্যতম একটা ভারসাম্য রাখা দরকার জীবনসঙ্গী বাছার ক্ষেত্রে। হয়তো একজন খুব সংস্কৃতিমনস্ক কিন্তু আর একজন এটাকে যথেষ্ট সম্মান পর্যন্ত করে না সেক্ষেত্রে এমন ভাববেন না যে বিবাহের পর ঠিক করে ফেলবেন সঙ্গীর স্বভাব-চরিত্র বা ব্যক্তিত্ব। এই সমস্ত বিষয় নিয়ে উল্টে ঝামেলা বাড়বে।